জাপানে TITP
সব আছে, টাকা আছে, শুধু মানুষ নেই
১
আরিফের প্রথম ফোন এসেছিল রাত দুইটায়।
জাহিদ ঘুমাচ্ছিল। ফোন বাজল। নম্বর চেনা না। +81 দিয়ে শুরু। জাপান। ধরল।
"জাহিদ, আরিফ বলছি।"
আরিফ। জাহিদের স্কুলের বন্ধু। একই ক্লাসে পড়ত। SSC-তে জাহিদ পেয়েছিল 4.17, আরিফ পেয়েছিল 3.22। তারপর আরিফ আর HSC দেয়নি। বাবা বলেছিল, পড়ার টাকা নেই। আরিফ গাজীপুরে গিয়ে গার্মেন্টসে ঢুকেছিল। তিন বছর কাটিয়ে ফিরে এসেছিল। তারপর দালালের পাল্লায় পড়ে জাপান।
TITP। Technical Intern Training Program। নামটা শুনলে মনে হয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। আসলে এটা সস্তা শ্রমের আন্তর্জাতিক পাইপলাইন।
"জাহিদ, ঘুমাচ্ছিলি?"
"রাত দুইটা, তুই কী মনে করিস?"
"এখানে বিকাল তিনটা। ভুলে গেছিলাম।"
২
আরিফ জাপানে গেছে সাত মাস হলো। গুনমা প্রিফেকচার। টোকিও থেকে দুই ঘণ্টা উত্তরে। একটা প্লাস্টিক মোল্ডিং ফ্যাক্টরি। কোম্পানির নাম বলতে পারে না, NDA সই করেছে। কিন্তু কাজটা বলতে পারে: প্লাস্টিকের পার্ট বানায়। ইনজেকশন মোল্ডিং মেশিনে। সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা। কখনো রাত আটটা। ওভারটাইম ধরলে দশ-বারো ঘণ্টা।
মাসে ১,৫০,০০০ ইয়েন। গ্রস। কাগজে দেখলে মন্দ না। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার।
কিন্তু নেটে আসে ৬০,০০০ ইয়েন।
বাকি ৯০,০০০ কোথায় যায়? ট্যাক্স ২০,০০০। হেলথ ইন্সুরেন্স ১৫,০০০। পেনশন ১৫,০০০ (যেটা সে কখনো পাবে না, কারণ পাঁচ বছরের আগে ফেরত দেওয়া হয় না, আর সে তিন বছরেই চলে আসবে)। হাউজিং ডিডাকশন ২৫,০০০। ইউনিয়ন ফি ৫,০০০। বাকি ১০,০০০ বিবিধ কাটা।
৬০,০০০ ইয়েন হাতে আসে। বাংলাদেশি টাকায় পঞ্চাশ হাজার।
৩
এই পঞ্চাশ হাজার থেকে আরিফ খায়, কাপড় কেনে, ফোন বিল দেয়, টয়লেট পেপার কেনে (জাপানে টয়লেট পেপার ছাড়া চলে না), মাসে একবার শ্যাম্পু কেনে (ড্রাগস্টোরের সবচেয়ে সস্তাটা), আর মাসে একবার হালাল মাংস কিনতে তাকাসাকি শহরে যায়, ট্রেনে।
সব খরচ বাদ দিয়ে বাঁচে সামান্য। সেখান থেকে ৩০,০০০ টাকা পাঠায় বাংলাদেশে। কখনো নিজে দুইবেলা ইন্সট্যান্ট রামেন খেয়ে বাকিটা যোগ করে। পাঠায় hundi-তে। ব্যাংকে পাঠালে ফি বেশি, সময় লাগে। hundi-তে দুইদিনে পৌঁছায়।
৩০,০০০ টাকা। মাইমনসিংয়ে আরিফের মায়ের হাতে।
মা সেই টাকা দিয়ে বাড়ির কিস্তি দেয়, ছোট ভাইয়ের কোচিংয়ের ফি দেয়, বাবার ওষুধ কেনে। বাবার ডায়াবেটিস, ওষুধ বন্ধ করলে পা নষ্ট হবে ডাক্তার বলেছে। আর বাকি যা থাকে, সেটা দিয়ে চাল-ডাল কেনে।
আরিফের টাকা ছাড়া ওই পরিবার চলবে না।
৪
জাপানে যেতে আরিফের খরচ হয়েছিল আট লাখ টাকা। দালাল বলেছিল ছয় লাখ। পরে আরো দুই লাখ বেরিয়েছে। ভিসা ফি, মেডিকেল, ট্রেনিং সেন্টারের খরচ, এয়ারপোর্টে এটা সেটা। টোটাল আট।
আট লাখ কোথা থেকে এসেছে? বাবার যা জমি ছিল, তার অর্ধেক বিক্রি। মায়ের গলার চেইন। আর বাকিটা সুদে ধার। মহাজন থেকে। মাসে তিন টাকা সুদ।
তার মানে আরিফের প্রথম দুই বছরের আয় মূলত ঋণ শোধের জন্য। ৩০,০০০ টাকা পাঠায়, তার মধ্যে ১২,০০০-১৫,০০০ যায় সুদ আর আসল শোধে। বাকি ১৫,০০০-১৮,০০০ তে সংসার চলে।
তিন বছরের কন্ট্র্যাক্ট। প্রথম দুই বছর ঋণ শোধ। তৃতীয় বছরে হয়তো কিছু জমবে। হয়তো পাঁচ-ছয় লাখ। তারপর ফেরত।
ফেরত এসে কী হবে? সেই পুরোনো প্রশ্ন। আরিফ এখনো ভাবেনি। তিন বছর পরের কথা তিন বছর পরে ভাববে। এখন ফ্যাক্টরিতে ঢুকতে হবে সকাল আটটায়।
৫
আরিফের অ্যাপার্টমেন্ট। শেয়ার করে তিনজনে। একটা 2LDK, মানে দুই রুম, একটা লিভিং-ডাইনিং-কিচেন। রুমমেটরা ভিয়েতনামিজ। একজনের নাম ফ্যাং, অন্যজনের নাম মিন। দুজনেই TITP। দুজনেই ফ্যাক্টরিতে কাজ করে, কিন্তু আলাদা কোম্পানিতে।
ফ্যাং ভালো ছেলে। হাসে। কিন্তু বাংলা জানে না, আরিফ ভিয়েতনামিজ জানে না, দুজনেই জাপানি জানে সামান্য। তো কথা হয় এরকম:
"ফ্যাং-সান, গোহান তাবেতা?" (ভাত খেয়েছ?)
"উন, তাবেতা।" (হ্যাঁ, খেয়েছি।)
ব্যস। কথোপকথন শেষ। দুজন দুই রুমে গিয়ে ফোন দেখে।
আরিফের জাপানি N4 লেভেল। মানে বেসিক। দোকানে কিছু কিনতে পারে, ট্রেনের টিকিট কাটতে পারে, ফ্যাক্টরিতে "হাই" আর "সুমিমাসেন" বলতে পারে। কিন্তু একটা গভীর কথা বলতে পারে না। "আমার মন খারাপ" জাপানিতে বলা যায়, "কানাশি দেসু", কিন্তু কেন মন খারাপ সেটা বোঝাতে পারে না।
N4 দিয়ে কাজ চলে। জীবন চলে না।
৬
ফ্যাক্টরিতে আরিফের সুপারভাইজারের নাম তানাকা-সান। পঞ্চাশ বছর বয়স। চুপচাপ মানুষ। রাগ করে না, প্রশংসাও করে না। কাজ ঠিক থাকলে কিছু বলে না, ভুল হলে বলে "মো ইচিদো" (আরেকবার)। এইটুকুই।
ফ্যাক্টরিতে আরো তিনজন বাংলাদেশি আছে। সাভারের রাসেল, কুমিল্লার শাহেদ, আর ময়মনসিংহের শাকিল। শাকিলকে আরিফ আগে চিনত না। জাপানে এসে চেনা হয়েছে। গুনমায় বাংলাদেশি বেশি নেই। যারা আছে, পরস্পরকে ধরে রাখে। না ভালোবাসায়, প্রয়োজনে।
রবিবার ছুটি। চারজন মিলে রান্না করে। চাল কেনে ডন কিহোতে থেকে (একটা ডিসকাউন্ট স্টোর)। মুরগি কেনে হালাল শপ থেকে, তাকাসাকিতে। আর মশলা? মশলা আসে বাংলাদেশ থেকে, কেউ না কেউ দেশে গেলে নিয়ে আসে। হলুদ, মরিচের গুঁড়া, ধনেপাতার বীজ (ধনেপাতা জাপানে পাওয়া যায়, কিন্তু দাম শুনলে কান্না পায়)।
রবিবারের রান্নাটাই সপ্তাহের একমাত্র আনন্দ। বাকি ছয়দিন ইন্সট্যান্ট রামেন। কাপ নুডলস। হায়াকু-এন শপ (১০০ ইয়েন শপ) থেকে পাঁচটা প্যাকেটে ৫০০ ইয়েন। ডিনার হলো গরম পানিতে নুডলস। সাথে একটা সেদ্ধ ডিম, যদি ফ্রিজে থাকে।
৭
TITP। নামে "ট্রেনিং"। বাস্তবে?
প্রথম দুই সপ্তাহ একজন সিনিয়র ওয়ার্কার দেখিয়ে দিল মেশিন কীভাবে চালাতে হয়। তারপর থেকে কাজ। শুধু কাজ। প্লাস্টিকের পেলেট মেশিনে ঢোকে, গলে যায়, ছাঁচে ঢালা হয়, ঠান্ডা হয়, পার্ট বের হয়। আরিফের কাজ: পার্ট বের করা, ফ্ল্যাশ ট্রিম করা, কোয়ালিটি চেক করা, বাক্সে রাখা। প্রতি মিনিটে একটা সাইকেল। ঘণ্টায় ষাট। দিনে পাঁচশো-ছয়শো পার্ট।
এই কাজে "ট্রেনিং" কী? কিছু নেই। এটা ম্যানুয়াল লেবার। জাপানি তরুণরা এই কাজ করতে চায় না। একঘেয়ে কাজ, কম বেতন, ফ্যাক্টরিতে দাঁড়িয়ে থাকা। তাই TITP আনে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন থেকে সস্তায় শ্রমিক। "ট্রেনি" নাম দিয়ে।
"ট্রেনি" হলে ন্যূনতম মজুরির কাছাকাছি দেওয়া যায়। "ট্রেনি" হলে ইউনিয়ন করার অধিকার সীমিত। "ট্রেনি" হলে কোম্পানি বদলানো যায় না। তিন বছর একই কোম্পানিতে থাকতে হবে। পছন্দ না হলেও। সুপারভাইজার খারাপ হলেও। পিঠে ব্যথা হলেও।
আরিফ জানে সে ট্রেনি না। সে শ্রমিক। কিন্তু কাগজে সে ট্রেনি। আর কাগজ যা বলে, আইন তাই মানে।
৮
জাপানের শীত আরিফ কল্পনা করতে পারেনি।
গুনমায় জানুয়ারিতে তাপমাত্রা মাইনাস পাঁচ-ছয় ডিগ্রি নামে। আরিফ বাংলাদেশে সর্বনিম্ন দশ-বারো ডিগ্রি দেখেছে, সেটাকে "হাড় কাঁপানো শীত" বলত। জাপানের শীত সেই শীতের সাথে তুলনার মতো না।
অ্যাপার্টমেন্টে কেরোসিন হিটার আছে। কিন্তু কেরোসিনের দাম বেশি। মাসে হিটারের পেছনে ৮,০০০-১০,০০০ ইয়েন। তিনজনে ভাগ করলেও ৩,০০০ ইয়েনের বেশি মাথাপিছু। আরিফ যতটুকু পারে হিটার কম চালায়। রাতে দুইটা কম্বল দিয়ে ঘুমায়। সকালে উঠলে নিশ্বাসের ভাপ দেখা যায়।
ফ্যাক্টরি থেকে অ্যাপার্টমেন্টে হেঁটে ফেরার পনেরো মিনিট, সেটা যুদ্ধ। কানে টুপি, গলায় মাফলার, হাতে গ্লাভস, তবু হাড়ে শীত ঢোকে। বাংলাদেশি শরীর এই শীতের জন্য তৈরি না।
শাকিল একদিন বলেছিল, "ভাই, এই দেশে গরম কবে আসে?"
রাসেল বলেছিল, "জুলাই-আগস্ট। তখন আবার এত গরম যে মরার জোগাড়। এই দেশে মাঝামাঝি কিছু নেই।"
৯
ঈদুল ফিতর।
বাংলাদেশে ছুটি, আনন্দ, সেমাই, নতুন জামা, মসজিদে নামাজ, কোলাকুলি। আরিফের ফ্যাক্টরিতে ঈদের কোনো ছুটি নেই। জাপানে ঈদ সরকারি ছুটি না। আরিফ সুপারভাইজারকে বলেছিল, "আশিতা, ইসলাম নো মাৎসুরি দেসু।" (কাল ইসলামের উৎসব।) তানাকা-সান বলেছিল, "সো দেসু কা।" (তাই নাকি।) তারপর আর কিছু বলেনি।
আরিফ ঈদের দিন সকালে উঠে ফ্যাক্টরিতে গেছে। মোল্ডিং মেশিন চালিয়েছে। লাঞ্চ ব্রেকে কনবিনি থেকে ওনিগিরি কিনে খেয়েছে। সন্ধ্যায় ফিরে এসে একা রুমে বসে মায়ের ভিডিও কল করেছে।
মা কাঁদছিল। "বাবা, তোর ছাড়া ঈদ লাগে না।"
আরিফ হাসল। "মা, এত কান্দিস ক্যান? আমি তো ভালো আছি।"
ফোন রেখে আরিফ কাপ নুডলস বানাল। গরম পানি ঢালল। তিন মিনিট অপেক্ষা করল। ঢাকনা খুলল। ভাপ উঠল।
এটা তার ঈদের ডিনার।
১০
আরিফ ফোনে বলছিল। জাহিদ শুনছিল।
"জানিস, এখানে সব আছে। টাকা আছে, কাজ আছে, নিরাপত্তা আছে, পরিষ্কার রাস্তা আছে, সময়মতো ট্রেন আছে। সব আছে।"
"তো?"
"শুধু মানুষ নেই।"
জাহিদ কিছু বলল না। কী বলবে?
"মানে, মানুষ তো আছে। রাস্তায় মানুষ, দোকানে মানুষ, ফ্যাক্টরিতে মানুষ। কিন্তু আমার মানুষ নেই। যাকে বলব, আজ মন খারাপ। যে বলবে, চল চা খাই। যে আমাকে নাম ধরে ডাকবে, 'আরিফ' বলবে, 'ইন্টার্ন-সান' না।"
ফ্যাক্টরিতে আরিফের নাম নেই। সে "ইন্টার্ন-সান"। বাংলাদেশি ইন্টার্ন। কখনো "বাংরাদেশু-সান"। ব্যক্তি হিসেবে সে অদৃশ্য। সে একটা ফাংশন। মেশিনের পাশে দাঁড়ানো ফাংশন।
১১
বিদেশে যে গেছে তার কষ্টের কথা বলার অধিকার নেই। সে তো সুযোগ পেয়েছে। সে তো ভাগ্যবান। গ্রামে কত ছেলে জাপান যেতে চায়, পারে না। আরিফ পেরেছে। তার কষ্ট কিসের?
মাকে বললে মা কাঁদবে। বাবাকে বললে বাবা অসুস্থ হবে। ছোট ভাইকে বললে ভাই ভয় পাবে। গ্রামের মানুষকে বললে বলবে, "বিদেশে গেছস, লাখ লাখ টাকা কামাস, তারপরও অভিযোগ?"
এটাই ফাঁদ। বিদেশে গেলে তুমি পরিবারের ATM। তোমার কাজ টাকা পাঠানো। তোমার কষ্ট, একাকীত্ব, ক্লান্তি, এগুলো কারো দরকার নেই। তোমার কষ্ট remittance-এর কলামে নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্টে লেখা থাকে: "রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।" পত্রিকায় হেডলাইন হয়: "প্রবাসী আয়ে নতুন রেকর্ড।" কিন্তু কোথাও লেখা থাকে না: "আরিফ ঈদের দিন কাপ নুডলস খেয়েছে।"
১২
জাহিদ ফোন রেখে অনেকক্ষণ বসে ছিল।
আরিফের কথা ভাবল। আরিফ মাইমনসিংয়ে থাকলে কী করত? হয়তো রিকশা চালাত। হয়তো কোনো দোকানে কাজ করত। মাসে আট-দশ হাজার টাকায়। কিন্তু মায়ের কাছে থাকত। বন্ধুদের সাথে চা খেত। ঈদে নতুন জামা না হোক, পুরোনো জামাতেই মসজিদে যেত, কোলাকুলি করত, সেমাই খেত।
আরিফ এখন মাসে ৩০,০০০ টাকা পাঠায়। রিকশা চালালে পাঠাত ০। তো আরিফের সিদ্ধান্ত কি ভুল?
না। আরিফের সিদ্ধান্ত ভুল না। আরিফের কোনো অপশন ছিল না।
বাবা অসুস্থ, ওষুধ দরকার। ছোট ভাই পড়ে, টাকা দরকার। বাড়ির কিস্তি বাকি, টাকা দরকার। মাইমনসিংয়ে রিকশা চালিয়ে এই টাকা আসবে না। গার্মেন্টসে কাজ করে আসবে না। একমাত্র রাস্তা বিদেশ। আর বিদেশে যেতে হলে আট লাখ টাকা দরকার, যেটা জমি বিক্রি করে জোগাড় করতে হয়।
আরিফের "পছন্দ" আসলে পছন্দ না। আরিফের একটাই রাস্তা ছিল। সে সেই রাস্তায় হেঁটেছে।
১৩
গ্রামের মানুষ দেখে আরিফ জাপান গেছে। আরিফের মা নতুন শাড়ি পরেছে। আরিফের ভাই কোচিংয়ে যায়। বাড়িতে নতুন টিনের চাল উঠেছে। সবাই ভাবে, আরিফ ভালো আছে। আরিফ সফল।
Availability heuristic। যেটা দেখা যায় সেটাই সত্য মনে হয়।
কেউ দেখে না রাত দুইটায় আরিফ গুনমার একটা অ্যাপার্টমেন্টে বসে কাপ নুডলসের ভাপ গায়ে লাগাচ্ছে। কেউ শোনে না আরিফ বলছে, "এখানে সব আছে। শুধু মানুষ নেই।" কেউ জানে না আরিফের পিঠে ব্যথা, পেইনকিলার ছাড়া সকালে উঠতে পারে না, কিন্তু রেস্ট নেওয়ার উপায় নেই কারণ রেস্ট মানে ওভারটাইম নেই, ওভারটাইম নেই মানে টাকা কম, টাকা কম মানে ভাইয়ের কোচিং বন্ধ।
সফলতার গল্পটা দেখা যায়। কষ্টের গল্পটা শোনা যায় না।
আরিফ একটা পরিবারের invisible ATM। প্রতি মাসে টাকা বের হয়। কেউ জিজ্ঞেস করে না মেশিনের কেমন লাগছে।
---
*অষ্টম অধ্যায়: সাত সমুদ্র তেরো নদী -- AVAILABILITY HEURISTIC। পর্ব ৭২/১০০।*