ফিরে আসা
তিন বছর পর আরিফ ফিরল। কিন্তু সে আসলে ফেরেনি।
১
আরিফ ফিরে এল।
তিন বছর পর। জাপান থেকে। হযরত শাহজালাল এয়ারপোর্টে নামার সাথে সাথে গরম বাতাসের একটা ঢেউ মুখে এসে লাগল। মার্চের গরম। জাপানে তখন চেরি ফুল ফুটছে, আট ডিগ্রি তাপমাত্রা। এখানে ছত্রিশ।
আরিফ গভীর একটা শ্বাস নিল। এই গরম, এই ধুলো, এই শব্দ, তিন বছর ধরে স্বপ্নে দেখেছে। কিন্তু স্বপ্নের বাংলাদেশ আর চোখের সামনের বাংলাদেশ এক না। স্বপ্নে শুধু ভালো জিনিসগুলো থাকে। মায়ের মুখ, মিমের হাসি, পুকুরের পানি, আজানের আওয়াজ। চোখের সামনে আছে ঠেলাঠেলি, চিৎকার, ট্যাক্সি ড্রাইভারদের ঝগড়া, আর লাগেজ বেল্টে জায়গা দখলের লড়াই।
পরিবার এসেছিল এয়ারপোর্টে। বাবা, মা, মিম, চাচা, ফুপু, দুই কাজিন। একটা ছোটখাটো দল। আরিফ বের হতেই মা কাঁদতে শুরু করলেন। বাবা চোখ মুছলেন চুপে চুপে। মিম দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরল।
বীরের ফেরা। প্রবাসফেরত ছেলে। ফুলের মালা নেই, কিন্তু চোখে সম্মান আছে। পাড়ার লোক বলবে, "আরিফ জাপান থেকে ফিরেছে।" এই একটা বাক্যে পুরো পরিবারের মর্যাদা দশ গুণ বেড়ে যাবে।
কিন্তু আরিফ নিজেকে বীর মনে করল না। সে ক্লান্ত মনে করল।
২
বাড়ি ফিরে আরিফ ঘুমাল। আঠারো ঘণ্টা।
উঠে দেখল, মা পায়েস বানিয়ে রেখেছেন। খেজুরের গুড়ের। আরিফের প্রিয়। তিন বছরে এটা মিস করেছে সবচেয়ে বেশি। জাপানের সুপারমার্কেটে হাজার রকম মিষ্টি পাওয়া যায়, কিন্তু খেজুরের গুড়ের পায়েস নেই।
পায়েস খেতে খেতে মা জিজ্ঞেস করলেন, "কত টাকা এনেছিস?"
এই প্রশ্নটা আরিফ জানত আসবে। বিদেশফেরত ছেলেকে প্রথম যে প্রশ্ন করা হয়, সেটা "কেমন আছিস?" না। সেটা "কত এনেছিস?"
"পনেরো লাখ জমেছে।"
মায়ের চোখ উজ্জ্বল হলো। পনেরো লাখ। গ্রামের হিসাবে এটা অনেক টাকা। এই টাকায় একটা জমি কেনা যায়, বা একটা ছোট ব্যবসা করা যায়, বা ভাইকে ভালো কোচিংয়ে দেওয়া যায়।
আরিফ বলল না যে পনেরো লাখের মধ্যে আট লাখ দালালের ঋণ মেটাতে গেছে। নিট সাত লাখ। তিন বছরের হাড়ভাঙা খাটুনির নিট ফল সাত লাখ টাকা।
আর এই সাত লাখ থেকে বোনের বিয়ের বাকি খরচ দিতে হবে, ঘরের চাল ঠিক করতে হবে, ভাইয়ের HSC-এর কোচিং দিতে হবে। সব শেষে আরিফের হাতে থাকবে হয়তো দুই লাখ। হয়তো তাও না।
৩
প্রথম সপ্তাহটা ভালো গেল।
প্রতিবেশীরা আসত। চা খেতে বসত। আরিফকে জিজ্ঞেস করত, "জাপান কেমন? ওখানকার মেয়েরা কেমন? টাকা কেমন পায়?" আরিফ গল্প করত। ফ্যাক্টরির কথা, বুলেট ট্রেনের কথা, টোকিওর আলোর কথা। বলত না যে ফ্যাক্টরিতে বারো ঘণ্টা দাঁড়িয়ে কাজ করতে করতে কোমর ভেঙে গেছে। বলত না যে বুলেট ট্রেনে কখনো চড়েনি, শুধু দূর থেকে দেখেছে। বলত না যে টোকিওর আলো দেখার সময় ছিল না, কারণ ওভারটাইম করতে হতো।
প্রবাসী শ্রমিকের গল্প দুই ভার্সনে থাকে। একটা পাড়ার লোকের জন্য, সুন্দর। আরেকটা নিজের জন্য, কুৎসিত।
দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সমস্যা শুরু হলো।
৪
আরিফ আবিষ্কার করল, দেশটা বদলে গেছে। না, আসলে দেশ বদলায়নি। সে বদলে গেছে।
তিন বছর জাপানে থাকতে থাকতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছিল কিছু জিনিসে। রাস্তায় লাইন দিয়ে হাঁটা। ট্রেন সময়মতো আসা। কেউ চিৎকার না করা। ডাস্টবিনে ময়লা ফেলা। রাতে নিরাপদে হাঁটা। দোকানে ঢুকলে "ইরাশশাইমাসে" শোনা, মানে "স্বাগতম।"
এখন? রিকশায় বসলে ড্রাইভার ভাড়া নিয়ে ঝগড়া করে। রাস্তায় গর্ত। লোডশেডিং। মশা। গরম। শব্দ, শব্দ, শব্দ। সব দিক থেকে শব্দ। মাইকে ওয়াজ, দোকানের হিন্দি গান, রিকশার হর্ন, কুকুরের ডাক।
আরিফের মাথা ব্যথা করত। সে বুঝতে পারত না কেন। তিন বছর আগে এই শব্দের মধ্যেই সে বড় হয়েছে, এগুলো তখন শব্দ ছিল না, জীবনের অংশ ছিল। এখন প্রতিটা শব্দ আলাদা করে কানে লাগে।
রিভার্স কালচার শক। বিদেশে গিয়ে যে ধাক্কা লাগে, সেটা সবাই জানে। কিন্তু দেশে ফিরে যে ধাক্কা লাগে, সেটা কেউ বলে না।
৫
আরিফ তিন বছরে কী পেয়েছে, আর কী হারিয়েছে?
পেয়েছে: পনেরো লাখ টাকা সঞ্চয়, যার নিট সাত লাখ। জাপানি ভাষা N3 লেভেল, যেটা বাংলাদেশে কোনো কাজে আসবে না। ফ্যাক্টরিতে মেশিন চালানোর দক্ষতা, যেটা দেশে কেউ চায় না। আর একটা কোমরের ব্যথা, যেটা আর সারবে না।
হারিয়েছে: তিনটা বছর। আঠারো থেকে একুশ। যৌবনের সবচেয়ে ভালো সময়। এই তিন বছরে দেশে থাকলে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া যেত, প্রেম করা যেত, ভার্সিটিতে যাওয়া যেত। কিছুই হয়নি।
গার্লফ্রেন্ড ছিল। সুমি। যাওয়ার আগে বলেছিল, "অপেক্ষা করব।" প্রথম বছর ফোন করত। দ্বিতীয় বছর কমে গেল। তৃতীয় বছরে একটা মেসেজ এল: "আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তুমি ভালো থেকো।"
আরিফ সেদিন রাতে ডরমিটরিতে একা বসে ছিল। কাঁদেনি। কান্না আসেনি। শুধু একটা শূন্যতা, বুকের মধ্যে একটা গর্ত, যেটা ভরাট হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই।
বন্ধুরা? তিন বছরে সবাই নিজের পথে চলে গেছে। কেউ ঢাকায়, কেউ চট্টগ্রামে, কেউ আরেক দেশে। ফেসবুকে লাইক দেয়, কিন্তু দেখা হয় না। আরিফ ফিরে এসে ফোন করল দুই-তিনজনকে। একজন বলল, "ভাই, ব্যস্ত, পরে দেখা করি।" পরে আর হয়নি।
তিন বছরে পরিচিত পৃথিবী অপরিচিত হয়ে গেছে।
৬
জাহিদ দেখতে পেল আরিফ ঠিক নেই।
আরিফ আগে হাসতো, ঠাট্টা করত, উঁচু গলায় কথা বলত। এখন চুপচাপ বসে থাকে। ফোনে জাপানি ভিডিও দেখে, জাপানি গান শোনে। খাবার টেবিলে বসে চপস্টিক খোঁজে, তারপর মনে হয় এটা বাংলাদেশ, হাত দিয়ে খায়। রাতে দেরি করে ঘুমায়, কারণ জাপানের টাইম জোনে তখন সকাল, পুরনো সহকর্মীরা জেগে থাকে, তাদের সাথে চ্যাট করে।
একদিন আরিফ বলল, "ভাই, এই দেশে আমার কিছু করার নেই।"
জাহিদ জিজ্ঞেস করল, "কেন?"
"জাপানে আমি কিছু ছিলাম। ফ্যাক্টরিতে আমাকে দরকার ছিল। সুপারভাইজার নাম ধরে ডাকত। আমি মেশিন চালাতাম, প্রোডাকশন বাড়াতাম, ওভারটাইম করতাম, তারা খুশি হতো। এখানে আমি কে? একটা HSC পাশ ছেলে। দশটা জায়গায় সিভি দিয়েছি, কেউ ফোনও করেনি।"
আরিফ থামল। তারপর বলল, "ওখানে আমি শ্রমিক ছিলাম, কিন্তু কাজের মূল্য ছিল। এখানে আমি কিছুই না।"
৭
তিনটা অপশন ছিল আরিফের সামনে।
প্রথমটা: আবার জাপান যাওয়া। কিন্তু ভিসার মেয়াদ শেষ, নতুন করে যেতে হলে আবার দালাল, আবার আট-দশ লাখ, আবার অপেক্ষা। এই পথ বন্ধ।
দ্বিতীয়টা: দেশে ব্যবসা করা। সাত লাখ টাকা পুঁজি। কী ব্যবসা? মুদি দোকান? ফার্মেসি? পোল্ট্রি? আরিফ এসব কিছু জানে না। সে জানে মেশিন চালাতে, ওয়েল্ডিং করতে, জাপানি ভাষায় কথা বলতে। এই দক্ষতাগুলো ময়মনসিংহের বাজারে কোনো কাজে আসে না। আর সাত লাখ? পোল্ট্রি ফার্ম করতেই দশ লাখ লাগে। ভাড়া দিয়ে দোকান চালাতে গেলে মাসে পঞ্চাশ হাজার যায় শুধু ভাড়া আর স্টকে। দুই বছরে সব শেষ।
তৃতীয়টা: আবার বিদেশ। কিন্তু এবার দালাল ছাড়া। সরকারি প্রক্রিয়ায়। কোরিয়ান EPS।
আরিফ BOESL-এর ওয়েবসাইটে ঢুকল। Employment Permit System। কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষা দিতে হয়, EPS-TOPIK। পাশ করলে সরকারিভাবে কোরিয়া যাওয়া যায়। খরচ দুই লাখের মতো, দালালের আট লাখ না। বেতন জাপানের চেয়ে ভালো। চুক্তি পাঁচ বছরের।
আরিফ কোরিয়ান ভাষা শিখতে শুরু করল। ফিরে আসার দুই সপ্তাহের মাথায়।
৮
জাহিদ একদিন জিজ্ঞেস করল, "তুই আবার যাবি?"
আরিফ বলল, "আর কী করব?"
"দেশে কিছু একটা করতে পারিস।"
আরিফ হাসল। সেই হাসিতে রস নেই, শুধু ক্লান্তি আছে। "ভাই, তুমি ফ্রিল্যান্সিং করো, তুমি ল্যাপটপে বসে ডলার কামাও। আমি কী করব? আমি মেশিন চালাতে পারি। ময়মনসিংহে কোন ফ্যাক্টরি আমাকে ত্রিশ হাজারের বেশি দেবে? জাপানে আমি আশি হাজার পেতাম।"
জাহিদ চুপ করে রইল। কারণ আরিফ ঠিকই বলেছে। দেশের শ্রমবাজারে কায়িক শ্রমের দাম কম। যে ছেলে জাপানে মাসে আশি হাজার টাকার কাজ করত, দেশে তাকে পনেরো-বিশ হাজার দেওয়া হবে। একই শ্রম, একই ঘাম, কিন্তু দাম আলাদা। কারণ দাম নির্ধারণ করে ভূগোল, দক্ষতা না।
এটাই সমস্যা। কায়িক শ্রমের দাম দেশে কম, বিদেশে বেশি। তাই কায়িক শ্রমিককে শরীর নিয়ে যেতে হয়। জাহিদের মতো যাদের দক্ষতা তারের মধ্য দিয়ে যায়, তাদের শরীর নিয়ে যেতে হয় না।
আরিফের শরীরটাই তার পুঁজি। আর পুঁজিকে বাজারে নিয়ে যেতে হয়।
৯
কোরিয়ান ভাষার পরীক্ষায় আরিফ পাশ করল। প্রথম চেষ্টায়।
জাপানি শেখার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। একটা বিদেশি ভাষা শিখলে দ্বিতীয়টা সহজ হয়। ব্যাকরণের ধরন মিলে, শব্দ না মিললেও কাঠামো চেনা লাগে। আরিফ তিন মাসে EPS-TOPIK পাশ করল। দালাল ছাড়া। কোচিং সেন্টারে মাসে তিন হাজার টাকা দিয়ে।
BOESL-এ নাম উঠল। লটারিতে সিলেক্ট হলো। মেডিকেল পাশ করল। পাসপোর্ট আপডেট হলো। ভিসা এল।
পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ হলো এক লাখ আশি হাজার টাকা। জাপানে যেতে দালালকে দিয়েছিল আট লাখ। পার্থক্যটা ছয় লাখ কুড়ি হাজার টাকা। এই পার্থক্যটা দালালের মুনাফা। এই পার্থক্যটা আরিফের তিন বছরের সঞ্চয়ের প্রায় পুরোটা।
আরিফ যখন দ্বিতীয়বার বিদেশে যাওয়ার তোড়জোড় করছে, জাহিদ ভাবল, এই ছেলেটা কি কোনোদিন থামবে? কোনোদিন কি একটা জায়গায় শিকড় গাড়বে? নাকি সারাজীবন এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাবে, শ্রমের দাম খুঁজতে?
১০
যাওয়ার আগের রাতে আরিফ জাহিদের সাথে বসল। ছাদে। রাতের আকাশে তারা নেই, মেঘলা। দূরে মসজিদের মিনার দেখা যায়। পাড়ায় কুকুর ডাকছে।
আরিফ বলল, "ভাই, একটা কথা বলি?"
"বল।"
"জাপান থেকে ফেরার পর আমি ভেবেছিলাম দেশে থাকব। সত্যি ভেবেছিলাম। মনে করেছিলাম, সাত লাখ দিয়ে একটা কিছু করব। কিন্তু দুই সপ্তাহ পরেই বুঝলাম, আমার দেশে কোনো জায়গা নেই।"
জাহিদ কিছু বলল না।
"জায়গা মানে ঘর না। ঘর তো আছে। জায়গা মানে, আমার দক্ষতার জায়গা নেই। আমি যা পারি, সেটার এখানে কোনো দাম নেই। আর এখানে যা দরকার, সেটা আমি পারি না।"
আরিফ একটু চুপ থাকল।
"আর একটা জিনিস। জাপানে তিন বছর থাকতে থাকতে আমি একটা অভ্যাসের মধ্যে ঢুকে গেছি। সকালে উঠে ফ্যাক্টরি যাওয়া, রাতে ফিরে ভাত খাওয়া, ঘুমানো। এই চক্রটা ভাঙতে পারছি না। দেশে বসে কিছু না করে থাকাটা আমাকে পাগল করে দেয়। আমি অলস বসে থাকতে পারি না। কাজ চাই।"
জাহিদ বুঝল। আরিফ শুধু টাকার জন্য যাচ্ছে না। সে যাচ্ছে কারণ দেশে তার জন্য কোনো কাঠামো নেই। কোনো ব্যবস্থা নেই যেটা বলবে, "তুমি এখানে দরকারি।"
১১
পরদিন সকালে আরিফ বাড়ি থেকে বের হলো।
একই দৃশ্য। মা কাঁদলেন। বাবা চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলেন। মিম এবার কাঁদল না, মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে ছিল। সে বুঝে গেছে, ভাই যায় আর আসে, এটাই ভাইয়ের জীবন।
জাহিদ ভাবল, আরিফ কি কখনো ফিরবে? স্থায়ীভাবে? নাকি সে সেই ধরনের মানুষ হয়ে গেছে যাদের ঘর সব জায়গায়, কিন্তু আসলে কোথাও না?
এয়ারপোর্টে যাওয়ার পথে রিকশায় বসে আরিফ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছিল। রাস্তার দুপাশে পরিচিত দোকান, পরিচিত গাছ, পরিচিত মুখ। সব চেনা, কিন্তু কিছুই নিজের না।
তার শরীর বাংলাদেশে, মন জাপানে। এটাই প্রবাসীর অভিশাপ।
দেশে থাকলে বিদেশের টান। বিদেশে থাকলে দেশের টান। দুই জায়গার মাঝখানে ঝুলে থাকা। কোথাও পুরোপুরি না থাকা। কোথাও পুরোপুরি না যাওয়া।
১২
আরিফ চলে গেল।
তার ব্যাগে দুই সেটের জামাকাপড়, একটা কোরিয়ান-বাংলা ডিকশনারি, একটা কোমরের বেল্ট ব্যথার জন্য, আর মায়ের দেওয়া একটা তাবিজ। ঠিক তিন বছর আগে জাপানে যাওয়ার সময়ও এরকম একটা ব্যাগ ছিল।
পনেরো লাখ এনেছিল। নিট সাত লাখ। তার মধ্যে পরিবারের খরচে পাঁচ লাখ গেছে। কোরিয়ার খরচে দেড় লাখ গেছে। হাতে আছে পঞ্চাশ হাজার টাকা।
তিন বছর। একটা দেশ। পঞ্চাশ হাজার টাকা। একটা কোমরের ব্যথা। একটা প্রাক্তন প্রেমিকার স্মৃতি। একটা N3 সার্টিফিকেট। আর একটা নতুন দেশের ভিসা।
এটাই হিসাব। পুরো হিসাব।
জাহিদ এয়ারপোর্ট থেকে ফিরে এসে ল্যাপটপ খুলল। Upwork-এ একটা নতুন প্রজেক্টের নোটিফিকেশন এসেছে। সে কাজ শুরু করল।
আরিফ আকাশে। জাহিদ ঘরে।
দুজনেই কাজ করছে। দুজনেই ডলার কামাচ্ছে। পার্থক্য শুধু একটা: একজনকে দেশ ছাড়তে হয়েছে, আরেকজনকে হয়নি।
এই একটা পার্থক্যের মধ্যে পুরো বাংলাদেশের শ্রম অভিবাসনের গল্প লুকিয়ে আছে।