এআই আসছে

ক্যামেরা এলে পেইন্টার মরেনি, কিন্তু যে পেইন্টার ক্যামেরা বুঝতে পারেনি সে মরেছে

পর্ব ৮৯ · ১২ মিনিট পড়া · ২০২৬-০৩-১৯

ক্লায়েন্টের মেসেজটা আসল রাত এগারোটায়।

জাহিদ তখন একটা React component লিখছে। Fiverr-এর কাজ, ই-কমার্স সাইটের প্রোডাক্ট ফিল্টার। ডেডলাইন আগামীকাল। কাজটা মোটামুটি শেষের দিকে, শুধু pagination বাকি। এমন সময় WhatsApp-এ নোটিফিকেশন এলো।

"Hi Zahid, quick question. Can ChatGPT build this filter instead? I tried and it gave me working code in 2 minutes."

জাহিদ মেসেজটা পড়ল। আবার পড়ল। তারপর ফোনটা উল্টো করে টেবিলে রাখল।

দুই মিনিটে working code। জাহিদ এই কাজে তিন দিন ধরে বসে আছে। তিন দিন মানে তিন দিন না, মাঝে ঘুম আছে, খাওয়া আছে, অন্য কাজ আছে, কিন্তু তবুও। ক্লায়েন্ট বলছে দুই মিনিট।

সে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইল। তারপর ChatGPT খুলল। একটা প্রম্পট লিখল: "Build a React product filter component with price range, category, and brand filters. Use Tailwind CSS."

পনেরো সেকেন্ডের মধ্যে কোড এসে গেল। জাহিদ কোডটা পড়ল। কাজ করবে? করবে। দেখতে কেমন হবে? মোটামুটি। ক্লায়েন্টের specific চাহিদা বুঝবে? না। API structure মিলবে? না। Edge case handle করবে? না। কিন্তু একটা কাজ চালানোর মতো জিনিস বের হয়ে এসেছে, পনেরো সেকেন্ডে।

জাহিদের পেটের ভেতরটা ঠান্ডা হয়ে গেল।

পরদিন সকালে রুবিনার ফোন এলো।

রুবিনা কাঁদছে না, কিন্তু গলায় কান্নার ওজন আছে। সেটা জাহিদ বুঝতে পারে, কারণ রুবিনা সাধারণত জোরে জোরে কথা বলে, আজ আস্তে বলছে।

"জাহিদ, একটা কাজ গেছে।"

"কী কাজ?"

"লোগো ডিজাইন। পঞ্চাশ ডলার। ক্লায়েন্ট আমেরিকান। গত সপ্তাহে কথা হয়েছিল, কনসেপ্ট পাঠিয়েছিলাম, ফিডব্যাকও ভালো ছিল। আজ সকালে মেসেজ দিল, 'Sorry, we used Midjourney. Looks good enough. Thanks anyway.'"

জাহিদ কিছু বলল না।

"Midjourney, জাহিদ। একটা AI। মাসে বিশ ডলার সাবস্ক্রিপশন। আমার একটা কাজের দাম পঞ্চাশ ডলার, ওদের পুরো মাসের সাবস্ক্রিপশন বিশ ডলার। এক মাসে ওরা শত শত লোগো বানাতে পারবে। আমাকে দরকারই নেই।"

"Midjourney-র লোগো কি ভালো হয়?"

"ভালো হয় কি না সেটা পয়েন্ট না। 'Good enough' হয়। Good enough মানে ক্লায়েন্টের কাজ চলে যায়। পারফেক্ট লাগে না, চলনসই লাগলেই হলো। আর বেশিরভাগ ছোট ক্লায়েন্টের পারফেক্ট লাগে না, চলনসই লাগলেই চলে।"

রুবিনা থামল। তারপর বলল, "জাহিদ, আমি ভয় পাচ্ছি।"

জাহিদও ভয় পাচ্ছে। কিন্তু সেটা বলল না।

ভয়টা আসলে কোথা থেকে আসছে?

জাহিদ রাতে শুয়ে ভাবল। সিলিং ফ্যান ঘুরছে, মশা কানের কাছে গুনগুন করছে, কিন্তু মাথার ভেতরে আরেকটা গুনগুন চলছে যেটা মশার চেয়ে বেশি বিরক্তিকর।

AI। Artificial Intelligence। কথাটা জাহিদ আগেও শুনেছে। কিন্তু আগে এটা ছিল সায়েন্স ফিকশনের জিনিস। হলিউডের সিনেমায় রোবট মানুষকে মারে, সেরকম। দূরের কিছু একটা। কিন্তু গত দুই বছরে সব বদলে গেছে। ChatGPT এসেছে, Copilot এসেছে, Midjourney এসেছে, Claude এসেছে। এগুলো আর সায়েন্স ফিকশন না। এগুলো এখন Fiverr-এ জাহিদের পাশে বসে আছে, একই কাজের জন্য বিড করছে।

পার্থক্য হলো, জাহিদ ঘুমায়, AI ঘুমায় না। জাহিদ ক্লান্ত হয়, AI ক্লান্ত হয় না। জাহিদ একটা কাজ করতে তিন দিন নেয়, AI নেয় তিন মিনিট। জাহিদের দাম দুইশো ডলার, AI-এর দাম বিশ ডলার।

এই হিসাবে জাহিদ হারবে। গণিত তো তাই বলছে।

কিন্তু গণিতে সব কথা ধরা পড়ে না।

পরদিন সন্ধ্যায় গ্রুপ কলে সবাই জমল। জাহিদ, রুবিনা, সজীব, ফারুক। সুমাইয়া হাসপাতালে, পরে জয়েন করবে। রাশেদ সরকারি অফিস থেকে বেরিয়ে ফোন ধরল।

জাহিদ বলল, "একটা কথা বলতে চাই। AI নিয়ে।"

সজীব বলল, "আমিও বলতে চাইছিলাম। গত সপ্তাহে একটা ক্লায়েন্ট Bolt দিয়ে পুরো ল্যান্ডিং পেজ বানিয়ে ফেলেছে। আমাকে জিজ্ঞেস করল, 'Can you just fix a few things?' মানে পুরো কাজটা AI করেছে, আমি শুধু ফিক্সার।"

রুবিনা বলল, "আমার লোগোর কাজ গেছে Midjourney-তে।"

জাহিদ বলল, "আমার ক্লায়েন্ট জিজ্ঞেস করেছে ChatGPT দিয়ে কাজটা করা যায় কি না।"

একটু চুপ থাকল সবাই।

ফারুক বলল, "আমার তো কোনো সমস্যা নেই।"

সবাই ফারুকের দিকে তাকাল। মানে, ভার্চুয়ালি তাকাল।

"AI দিয়ে ওয়্যারিং করা যায়? সুইচবোর্ড লাগানো যায়? ইলেকট্রিক্যাল ফল্ট খুঁজে বের করা যায়? একটা পুরনো বাড়ির তার বদলাতে AI আসবে নাকি? রোবট আসবে সিঁড়ি বেয়ে উঠে?"

কেউ কিছু বলল না।

ফারুক বলল, "ভাই, হাতের কাজ হাতেই থাকবে। AI কোড লিখতে পারে, ছবি আঁকতে পারে, কিন্তু একটা বাড়িতে ঢুকে MCB বসাতে পারে না। প্লাম্বিং করতে পারে না। এগুলো শরীরের কাজ, মস্তিষ্কের না।"

জাহিদ ভাবল, ফারুকের কথা ঠিক। যে কাজে শরীর লাগে, সে কাজ AI নিতে পারবে না। অন্তত বাংলাদেশে না, যেখানে রোবটের দাম একটা বাড়ির সমান।

সুমাইয়া রাত নয়টায় জয়েন করল।

"AI ডায়াগনসিস?" সুমাইয়া হাসল। "AI এখন X-ray পড়তে পারে। কিন্তু রোগী কি AI-এর কাছে যেতে চায়? একটা মানুষ যখন অসুস্থ, সে শুধু ডায়াগনসিস চায় না। সে চায় কেউ তার কথা শুনুক। 'আপনি ভালো হয়ে যাবেন' কথাটা মেশিন বললে আর ডাক্তার বললে, ওজন আলাদা।"

রাশেদ বলল, "সরকারি অফিসে AI আসতে কত বছর লাগবে? পঞ্চাশ? একশো? আমার অফিসে এখনো ফাইল হাতে হাতে যায়। একটা অনুমোদন পেতে সাতটা টেবিল ঘুরতে হয়। প্রতিটা টেবিলের মানুষ তার টেবিল ধরে বসে আছে কারণ ওই টেবিলটাই তার ক্ষমতা।"

ফারুক হেসে বলল, "মানে সরকারি চাকরি AI-proof।"

রাশেদ বলল, "দুঃখজনকভাবে, হ্যাঁ।"

জাহিদ সবার কথা শুনল। মাথার মধ্যে একটা ছবি তৈরি হচ্ছে।

ফারুকের কাজ নিরাপদ। ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্ক ফিজিক্যাল। AI একটা তার জোড়া লাগাতে পারে না। ঝুঁকি: কম।

সুমাইয়ার কাজ মোটামুটি নিরাপদ। AI ডায়াগনসিস শিখছে, কিন্তু রোগী মানুষ চায়, মেশিন না। ঝুঁকি: কম থেকে মাঝারি।

রাশেদের কাজ নিরাপদ, কিন্তু ভুল কারণে। সরকারি ব্যুরোক্রেসি AI adopt করবে না কারণ সিস্টেম বদলাতে কেউ চায় না। ঝুঁকি: কম।

আরিফের কাজ? গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। অটোমেশন আসছে, কিন্তু বাংলাদেশে শ্রমিকের বেতন এত কম যে রোবট বসানো লাভজনক না। এখনো না। দশ বছর পরে? কে জানে। ঝুঁকি: মাঝারি।

রুবিনার কাজ বিপদে। লোগো, ব্যানার, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। "Good enough" লেভেলে AI করতে পারে। ঝুঁকি: বেশি।

সজীবের কাজ সবচেয়ে বিপদে। বেসিক ফ্রন্টএন্ড, ল্যান্ডিং পেজ, ওয়ার্ডপ্রেস। Bolt, v0, Cursor এগুলো সজীবের কাজ আজকেই করে দিচ্ছে। ঝুঁকি: অনেক বেশি।

আর জাহিদ? AI কোড লিখতে পারে, কিন্তু ক্লায়েন্টের চাহিদা বুঝতে পারে না। সিস্টেম আর্কিটেকচার ডিজাইন করতে পারে না। এখনো পারে না। কিন্তু "এখনো" শব্দটা ভয়ের। ঝুঁকি: বেশি।

জাহিদ বুঝল, সময় কম।

পরদিন সকালে জাহিদ একটা কাজ করল।

GitHub Copilot-এর সাবস্ক্রিপশন নিল। মাসে দশ ডলার। প্রথম মাস ফ্রি।

তারপর সেই ক্লায়েন্টের কাজটায় বসল। প্রোডাক্ট ফিল্টার। যেটা তিন দিনে শেষ হচ্ছিল না।

Copilot অন করে কোড লিখতে শুরু করল। একটা লাইন লিখছে, Copilot বাকিটা সাজেস্ট করছে। Tab চাপ দিচ্ছে, কোড আসছে। ভুল সাজেশন ইগনোর করছে, ঠিক সাজেশন নিচ্ছে।

তিন ঘণ্টায় কাজটা শেষ হলো। তিন দিনের কাজ। তিন ঘণ্টা।

জাহিদ চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রইল। তারপর ক্লায়েন্টকে মেসেজ দিল:

"Filter is ready. Tested and deployed on staging. Let me know if you need changes."

ক্লায়েন্ট খুশি। "Wow, that was fast!"

জাহিদ হাসল। ক্লায়েন্ট জানে না কীভাবে হলো। জানার দরকারও নেই। কিন্তু জাহিদ জানে। Copilot কোড লিখেছে, কিন্তু জাহিদ ছাড়া Copilot জানত না কোন কোড লিখতে হবে। API endpoint কোনটা, ডাটা স্ট্রাকচার কেমন, edge case কোনগুলো, সেগুলো জাহিদ ঠিক করেছে। Copilot হলো কলম, জাহিদ হলো লেখক। লেখক ছাড়া কলম শুধু কালি।

রুবিনাকে ফোন করল জাহিদ।

"রুবিনা, তুই Midjourney ব্যবহার করেছিস কখনো?"

"না। ওটা আমার শত্রু।"

"শত্রু না। ওটা টুল। শোন, তোর ক্লায়েন্ট যদি Midjourney দিয়ে লোগো বানায়, তুই কী করবি? কাঁদবি? নাকি Midjourney-কে তোর কাজে লাগাবি?"

রুবিনা চুপ।

"ধর, একটা ক্লায়েন্ট চায় brand identity। Midjourney দিয়ে সে একটা লোগো বানাতে পারবে। কিন্তু brand এর গল্প বলতে পারবে? target audience বুঝে ডিজাইন করতে পারবে? পারবে না। তুই পারবি। আর তুই যদি Midjourney ব্যবহার করে concept দ্রুত তৈরি করিস, তোর স্পিড বাড়বে, কোয়ালিটি বাড়বে।"

রুবিনা কিছুক্ষণ চুপ থাকল। তারপর বলল, "মানে AI-কে হারাতে হবে না, ব্যবহার করতে হবে?"

"ঠিক।"

"কিন্তু তাহলে AI ছাড়া যারা কাজ করত, তাদের কী হবে?"

এটা কঠিন প্রশ্ন। জাহিদ জানে উত্তরটা, কিন্তু উত্তরটা সুন্দর না।

উত্তরটা হলো, তারা পিছিয়ে পড়বে।

এটা নতুন না। তাঁতি মরেছে যখন পাওয়ারলুম এসেছে। ঘোড়ার গাড়ি গেছে যখন মোটর গাড়ি এসেছে। টাইপিস্ট গেছে যখন কম্পিউটার এসেছে। প্রতিবার কিছু মানুষ পিছিয়ে পড়েছে, কিছু মানুষ মানিয়ে নিয়েছে।

কিন্তু এবার পার্থক্য আছে। আগে যন্ত্র শরীরের কাজ নিত, এবার যন্ত্র মস্তিষ্কের কাজ নিচ্ছে। কোড লেখা, ছবি আঁকা, লেখালেখি, অনুবাদ, বিশ্লেষণ। এগুলো "educated" মানুষের কাজ ছিল। এখন AI করছে।

কিন্তু যে কাজ রিপিটিটিভ, প্যাটার্নে চলে, সেটা যাবে। সজীবের বেসিক ফ্রন্টএন্ড কাজ যাবে। রুবিনার সিম্পল লোগো কাজ যাবে। জাহিদের boilerplate কোডিং যাবে। যাবে মানে আজকে যাবে না। ধীরে ধীরে। কিন্তু যাবে।

১০

জাহিদ সজীবকে আলাদা করে ফোন করল।

"সজীব, তোকে একটা কথা বলতে হবে। তুই রাগ করবি না।"

"বল।"

"তোর বেসিক ফ্রন্টএন্ড কাজ, ল্যান্ডিং পেজ আর ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজেশন, এগুলো আর বেশিদিন থাকবে না।"

সজীব চুপ। সে জানে। গত তিন মাসে Fiverr-এ তার অর্ডার অর্ধেকে নেমেছে। ক্লায়েন্টরা Bolt, Framer দিয়ে নিজেরাই করছে।

"তাহলে কী করব?"

"দুইটা পথ। হয় লেভেল আপ কর, React শিখ, Next.js শিখ, TypeScript শিখ। অথবা AI-কে টুল হিসেবে ব্যবহার করে দ্রুত কাজ কর। আগে তিন দিনে যেটা করতি, AI দিয়ে তিন ঘণ্টায় কর।"

সজীব বলল, "মানে AI আমার চাকরি নিচ্ছে না, আমার speed বাড়াচ্ছে?"

"যদি তুই ব্যবহার করিস, তাহলে হ্যাঁ। যদি না করিস, তাহলে AI তোর কাজ নেবে।"

১১

জাহিদ হিসাব করল।

আগে একটা প্রজেক্ট শেষ করতে এক সপ্তাহ লাগত। এখন Copilot দিয়ে তিন দিনে শেষ হচ্ছে। রেট একই। আয় দ্বিগুণ। জাহিদ রেট কমাল না। কারণ রেট কমালে সবাই কমাবে, race to the bottom হবে। সে দ্রুত ডেলিভার করছে, ক্লায়েন্ট খুশি।

AI জাহিদের চাকরি নেয়নি। AI জাহিদের সহকারী হয়েছে।

কিন্তু এটা তখনই কাজ করে যখন জাহিদ AI-এর চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকে। AI কোড লিখতে পারে, জাহিদকে বুঝতে হবে কোন কোড লেখা দরকার। AI উত্তর দিতে পারে, জাহিদকে জানতে হবে প্রশ্নটা কী।

যে প্রশ্ন করতে জানে, সে AI-এর মালিক। যে প্রশ্ন করতে জানে না, সে AI-এর শিকার।

১২

রাতে জাহিদ মিমকে ডাকল।

"মিম, তোর ক্লাসে কেউ AI ব্যবহার করে?"

"সবাই করে। Assignment-এ ChatGPT দিয়ে লেখে।"

"তুই করিস?"

"বুঝতে না পারলে জিজ্ঞেস করি। কিন্তু হুবহু কপি করি না।"

জাহিদ একটু হাসল। মিম বুদ্ধিমান। সে AI-কে শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করছে, চিটশিট হিসেবে না।

"মিম, মফস্বলের ছেলেমেয়েদের জন্য এখানে সুযোগ আছে। আগে ঢাকার ছেলেমেয়েদের সুবিধা ছিল, ভালো স্কুল, ভালো টিচার, ভালো কোচিং। এখন AI সবার কাছে একই। মাইমনসিং-এ বসে একটা ছেলে যে ChatGPT পাচ্ছে, ঢাকায় বসেও সেই একই ChatGPT। AI গরিবের টিউটর হতে পারে, যদি গরিব ছেলেটা ব্যবহার করতে শেখে।"

মিম বলল, "ভাইয়া, তার মানে AI খারাপ না?"

জাহিদ জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। রাত। আকাশে তারা নেই, মেঘ আছে। কোথাও একটা কুকুর ডাকছে।

"AI ভালো না, খারাপ না। AI একটা হাতিয়ার। কুড়াল দিয়ে গাছ কাটা যায়, ঘরও ভাঙা যায়। কুড়াল ভালো না খারাপ? নির্ভর করে কে ধরেছে, কেন ধরেছে।"

১৩

জাহিদ সেই রাতে অনেকক্ষণ জেগে ছিল।

সে ভাবছিল মফস্বলের সেই ছেলেমেয়েদের কথা যারা এখন HSC দিচ্ছে, যারা পলিটেকনিকে পড়ছে, যারা ফ্রিল্যান্সিং শিখছে। তাদের জন্য মেসেজটা কী?

মেসেজটা সোজা। যে কাজে শরীর লাগে, সেটা নিরাপদ। যে কাজে মানুষের সাথে যোগাযোগ লাগে, সেটা নিরাপদ। কিন্তু যে কাজ পুরোটাই ডিজিটাল, সেটা বদলাবে। মরবে না। কিন্তু বদলাবে।

ক্যামেরা এলে পেইন্টার মরেনি। ক্যালকুলেটর এলে গণিতবিদ মরেনি। AI এলে কোডার মরবে না। কিন্তু যে কোডার AI ব্যবহার করতে শিখবে না, সে মরবে।

জাহিদ ফোনটা তুলল। Copilot-এর ড্যাশবোর্ড খুলল। আগামীকাল নতুন একটা প্রজেক্ট আছে। API integration। আগে হলে ভয় পেত। এখন ভয় পাচ্ছে না। কারণ তার পাশে একটা সহকারী আছে যে ঘুমায় না, ক্লান্ত হয় না, বিরক্ত হয় না।

শুধু বুঝতে হবে, সহকারীকে কী বলতে হয়।

এটাই আসল স্কিল। এটাই ভবিষ্যৎ।