রাকিব ভাইয়ের ঋণ
কেউ একজনকে থামতে হতো, আমি বড়, আমি থেমেছি
১
ঈদের দুই দিন আগে রাকিব ভাই বাড়ি এলো।
চার মাস পরে। গাজীপুর থেকে। ব্যাগে আয়েশার জন্য একটা ফ্রক, আম্মার জন্য একটা শাড়ি, আব্বার জন্য একটা লুঙ্গি। তাহিরা ভাবির হাতে একটা প্লাস্টিকের ব্যাগ, ভেতরে সেমাই আর চিনি। আয়েশা তাহিরা ভাবির কোলে, ঘুমাচ্ছে।
জাহিদ দরজায় দাঁড়িয়ে ছিল। রাকিব ভাইকে দেখে প্রথমে চিনতে পারল না। না, চিনতে পারল, কিন্তু একটা ধাক্কা লাগল। চার মাস আগের রাকিব ভাই আর আজকের রাকিব ভাইয়ের মধ্যে কিছু একটা বদলে গেছে। কী বদলেছে সেটা এক কথায় বলা যায় না। মুখে একটু বেশি ক্লান্তি, চোখের নিচে একটু বেশি ছায়া, পিঠটা একটু বেশি বাঁকা। তিরিশ বছরের ছেলে দেখতে পঁয়ত্রিশের লাগছে।
"ভাই!"
রাকিব হাসল। সেই চেনা হাসি, যেটা মুখে আসে কিন্তু চোখ পর্যন্ত পৌঁছায় না। "কেমন আছিস?"
"ভালো। তুমি?"
"মোটামুটি।"
মোটামুটি। রাকিব ভাইয়ের সবকিছু সবসময় মোটামুটি। ভালোও না, খারাপও না। মাঝখানে একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেখান থেকে কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে না "আসলে কেমন আছ?"
২
রাকিব ভাইয়ের বয়স তিরিশ।
তিরিশ বছর বয়সে সে গার্মেন্টসের ফ্লোর ম্যানেজার। গাজীপুরের একটা ফ্যাক্টরিতে। মাসে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। চার বছর আগে লাইন সুপারভাইজার ছিল, তারপর সিনিয়র সুপারভাইজার, তারপর ফ্লোর ম্যানেজার। প্রমোশনের গতি ভালো, কারণ রাকিব কাজ বোঝে, মানুষ বোঝে, হিসাব বোঝে। ফ্যাক্টরির মালিক বলেছে, "রাকিব থাকলে প্রোডাকশন ঠিক থাকে।"
পঁয়ত্রিশ হাজার টাকা। গাজীপুরে একটা ছোট ভাড়া বাসা, দুই রুম। তাহিরাকে বিয়ে করেছে দুই বছর আগে। তাহিরাও গার্মেন্টসে কাজ করত, এখন আয়েশার জন্মের পর ছেড়ে দিয়েছে। আয়েশা দুই বছর, এখন হাঁটতে শিখেছে, কথা বলতে শিখেছে, "মামু" বলতে শিখেছে।
রাকিব ভাই কখনো অভিযোগ করে না। কখনো করেনি। ছোটবেলায় জুতা ছেঁড়া থাকলে বলত না। স্কুলে টিফিনের টাকা না থাকলে বলত না। এসএসসি-র পরে যখন আব্বা বলল "আর পড়া হবে না, কাজে যা," তখনও বলেনি "আমি পড়তে চাই।" চুপচাপ গাজীপুর চলে গেছে। একটা গার্মেন্টসে ঢুকেছে। মাসে চার হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেছে।
সেই চার হাজার টাকা থেকে দুই হাজার বাড়িতে পাঠাত। প্রতি মাসে। একটা মাসও মিস হয়নি।
জাহিদের স্কুলের বেতন, বইয়ের খরচ, পরীক্ষার ফি, কোচিংয়ের খরচ, সবকিছুর একটা অংশ রাকিব ভাইয়ের সেই দুই হাজার টাকা থেকে এসেছে। জাহিদ জানে। সবাই জানে। কেউ বলে না।
৩
ঈদের দিন সকালে নামাজ পড়ে ফিরে এলো সবাই। আম্মা সেমাই বানিয়েছে। আব্বা চেয়ারে বসে আছে, পায়ের ব্যথা বেড়েছে, কিন্তু ঈদের দিন ব্যথার কথা বলা যায় না। তাহিরা ভাবি রান্নাঘরে, আম্মাকে সাহায্য করছে। আয়েশা ঘরের মধ্যে দৌড়াচ্ছে, সবকিছুতে হাত দিচ্ছে, সবকিছু ফেলে দিচ্ছে।
জাহিদ রাকিব ভাইয়ের দিকে তাকাল। রাকিব ভাই চেয়ারে বসে চা খাচ্ছে। ডান হাতটা কাপের গায়ে, আর জাহিদ হাতটা দেখল।
হাতটা রুক্ষ। আঙুলের মাথায় চামড়া পুরু হয়ে গেছে। তালুতে কিছু দাগ, কাপড় কাটার মেশিন থেকে হতে পারে, আবার ইস্ত্রি থেকেও হতে পারে। নখ ছোট করে কাটা, কিন্তু নখের কিনারায় হলুদাভ ছোপ। গার্মেন্টসের রঙ? কেমিক্যাল? জানা নেই।
জাহিদের নিজের হাতের দিকে তাকাল। নরম। পরিষ্কার। কীবোর্ডে টাইপ করে করে আঙুলের মাথা মসৃণ হয়ে গেছে, কিন্তু রুক্ষ হয়নি। এই দুই হাতের পার্থক্যটা আসলে একটা গল্প বলে। একটা হাত আরেকটা হাতকে তৈরি করেছে। রাকিব ভাইয়ের রুক্ষ হাত জাহিদের নরম হাতকে সম্ভব করেছে।
৪
বিকেলে ছাদে বসেছে দুই ভাই। নিচে মহল্লায় বাচ্চারা খেলছে, কোথাও থেকে হিন্দি গানের আওয়াজ আসছে, পাশের বাড়ি থেকে মুরগি ভাজার গন্ধ আসছে। ঈদের বিকেল। একটা অলস, ক্লান্ত, ভরপেট সময়।
রাকিব ভাই পিঠে হাত দিয়ে একটু নড়ল। জাহিদ খেয়াল করল।
"পিঠে ব্যথা?"
"সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। দশ ঘণ্টা। কখনো বারো। ফ্লোরে বসার জায়গা নেই।"
"ডাক্তার দেখিয়েছ?"
রাকিব হাসল। সেই হাসি। "ডাক্তার দেখিয়ে কী হবে? বলবে বিশ্রাম নাও। বিশ্রাম নিলে কে কাজ করবে?"
জাহিদ কিছু বলল না। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইল দুজনে। তারপর জাহিদ বলল। কথাটা অনেকদিন ধরে বলতে চাইছিল, কিন্তু কখনো সুযোগ হয়নি। আসলে সুযোগ হয়নি না, সাহস হয়নি।
"ভাই।"
"হুম?"
"তুমি যদি ইউনিভার্সিটিতে যেতে পারতে..."
রাকিব চায়ের কাপটা নামিয়ে রাখল। জাহিদের দিকে তাকাল। মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। কিন্তু চোখে কিছু একটা আছে। রাগ? দুঃখ? না, কোনোটাই না। এটা একটা পুরনো ব্যথা, যেটা এতদিনে শুকিয়ে গেছে, কিন্তু দাগটা রয়ে গেছে।
"তাহলে তুই যেতে পারতিস না।"
"কেন?"
"কারণ দুইজনের খরচ চালানোর সামর্থ্য ছিল না। আব্বার পায়ের ব্যথা তখনো ছিল, আম্মার সেলাইয়ের কাজ তখনো ছিল, কিন্তু টাকা ছিল না। কেউ একজনকে থামতে হতো। আমি বড়, আমি থেমেছি।"
"এটা ফেয়ার ছিল না।"
রাকিব হাসল। এবার একটু অন্যরকম হাসি। তিক্ত না, কিন্তু একটু ক্লান্ত। "ফেয়ার? ফেয়ার দিয়ে পেট ভরে না। হিসাব মেলাতে হয়। আমি হিসাব মেলিয়েছি।"
জাহিদের গলায় কিছু একটা আটকে গেল। গিলে ফেলল। বলল, "তুমি কি কখনো রাগ করো? আমার ওপর?"
রাকিব জাহিদের দিকে তাকাল। এবার তাকানোটা একটু লম্বা হলো। তারপর বলল, "তুই কি ভাবিস আমি রাগ করি?"
"আমি ভাবি।"
"কেন?"
"কারণ তুমি থেমেছ বলে আমি হাঁটতে পেরেছি। তুমি না থামলে আমি কোনোদিন কম্পিউটার শিখতে পারতাম না, ফ্রিল্যান্সিং শিখতে পারতাম না, এখন যা আয় করি সেটা কোনোদিন সম্ভব হতো না। তোমার জীবনটা আমার জন্য খরচ হয়ে গেছে।"
রাকিব চুপ করে রইল। বেশ কিছুক্ষণ। ছাদের ওপর দিয়ে বাতাস যাচ্ছে, শীতের শেষ, কিন্তু বাতাসে এখনো একটু কামড় আছে।
তারপর বলল, "খরচ হয়নি। বিনিয়োগ হয়েছে।"
৫
জাহিদের চোখ ভিজে গেল। সে সরাসরি তাকাতে পারল না। পাশের বাড়ির ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
রাকিব বলল, "শোন, তুই একটা জিনিস বুঝ। আমি যে থেমেছি সেটা আমার সিদ্ধান্ত ছিল না, পরিস্থিতির সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু তুই যে হাঁটতে পেরেছিস সেটা তোর নিজের কাজ। আমি শুধু একটু জায়গা করে দিয়েছি। হাঁটাটা তুই হেঁটেছিস।"
"কিন্তু ভাই..."
"কিন্তু টিন্তু কিছু না। আমি যদি ইউনিভার্সিটিতে যেতাম, তাহলে কী হতো? হয়তো একটা সরকারি চাকরি পেতাম। হয়তো পেতাম না। হয়তো বিসিএস দিতাম তিন বছর ধরে, না পেয়ে হতাশ হয়ে বসে থাকতাম। দেশে বিএ পাশ বেকারের অভাব নেই। গার্মেন্টসে অন্তত কাজ আছে, টাকা আছে, পেটের ভাত আছে।"
"পঁয়ত্রিশ হাজার টাকায় কি চলে?"
"চলে। বেশি না, কিন্তু চলে। তাহিরা হিসাব বোঝে। খরচ কম রাখে। আয়েশার জন্য একটু জমাচ্ছি। বাকিটা দেখা যাবে।"
দেখা যাবে। রাকিব ভাইয়ের আরেকটা শব্দ। মোটামুটি, দেখা যাবে। পুরো জীবনটাই মোটামুটি আর দেখা যাবের মধ্যে কাটছে।
৬
জাহিদ বলল, "ভাই, একটা কথা বলি?"
"বল।"
"আমি এখন ভালো আয় করি। মাসে প্রায় এক লাখ টাকার মতো। কখনো বেশি, কখনো কম, কিন্তু গড়ে এক লাখ। আমার খরচ কম। আমি চাইলে তোমাকে সাহায্য করতে পারি।"
"সাহায্য? কী সাহায্য?"
"তুমি চাইলে কিছু শিখতে পারো। কোনো কোর্স করতে পারো। গার্মেন্টস ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা আছে, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ট্রেনিং আছে, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট আছে। আমি ফান্ড করব।"
রাকিব কিছু বলল না। জাহিদের দিকে তাকাল, তারপর ছাদের রেলিংয়ের দিকে।
"আমার বয়স তিরিশ।"
"তো?"
"তিরিশ বছর বয়সে শিখে কী হবে? ছেলেমানুষ বয়সে শেখার সময় ছিল, সেটা গেছে। এখন আর কী শিখব?"
"ফারুক ভাই আটাশ বছর বয়সে সোলার বিজনেস শুরু করেছে। এখন মাসে দুই লাখ টাকা আয় করে। পাটকেলঘাটায় বসে। কোনো ডিগ্রি নেই।"
রাকিব কিছু বলল না।
"সজীব পলিটেকনিকের পরে সরাসরি কাজে ঢুকেছিল। এখন ফ্রিল্যান্সিং শিখছে, পাশাপাশি। রুবিনা গ্রাফিক ডিজাইন শিখেছে নিজে নিজে, কোনো কোর্স করেনি। বয়স কোনো ব্যাপার না, ভাই।"
"তোর বন্ধুরা আলাদা। ওরা শুরু থেকে একটা ট্র্যাকে ছিল। আমি গার্মেন্টসে আছি বারো বছর। বারো বছর ধরে একই জিনিস করে এসেছি। এখন হঠাৎ নতুন কিছু শুরু করলে কী হবে?"
"হতেও পারে।"
রাকিব চুপ করে রইল। কিন্তু জাহিদ দেখল, ভাইয়ের চোখে একটা কিছু নড়ল। ছোট্ট একটা নড়াচড়া, যেটা বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু জাহিদ চেনে। এটা আগ্রহ না, এটা ভয়ও না। এটা একটা "যদি"। যদি সম্ভব হয়। যদি চেষ্টা করলে কিছু হয়। যদি তিরিশ বছর বয়সেও একটা নতুন দরজা খোলা যায়।
৭
রাতে শুতে যাওয়ার আগে রাকিব জাহিদকে ডাকল।
"জাহিদ।"
"হুম?"
"সেই গার্মেন্টস ম্যানেজমেন্টের কোর্স, কোথায় হয়?"
জাহিদের বুকের ভেতরে কিছু একটা নড়ে উঠল। সে চেষ্টা করল মুখে কিছু না দেখাতে।
"বিজিএমইএ-র নিজস্ব ট্রেনিং সেন্টার আছে। ঢাকায়, মিরপুরে। ছয় মাসের কোর্স। উইকএন্ডে ক্লাস, কাজের দিন কাজ করা যায়।"
"খরচ?"
"তিরিশ হাজার। আমি দেব।"
"তুই দিবি কেন? আমি নিজে দিতে পারব।"
"পারবে, কিন্তু তাহলে আয়েশার জমানো টাকায় হাত দিতে হবে। সেটা করো না। আমি দিচ্ছি।"
রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "ভাবব।"
ভাবব মানে হ্যাঁ না। ভাবব মানে না-ও না। কিন্তু রাকিব ভাইয়ের মুখে "ভাবব" শব্দটা শোনা মানে অনেকটা এগিয়ে যাওয়া। কারণ রাকিব ভাই সাধারণত "না" বলে দেয়। দ্রুত, পরিষ্কার, কোনো আলোচনা ছাড়া। আজ "না" বলেনি। ভাববে। একটা বীজ পড়েছে।
৮
বীজটা কী? জাহিদ ভাবল।
হয়তো গার্মেন্টস ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং। হয়তো কোয়ালিটি কন্ট্রোল সার্টিফিকেশন। সেটা পেলে বেতন বাড়বে, পঁয়ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হতে পারে। হয়তো একদিন নিজের একটা ছোট ওয়ার্কশপ। সাবকন্ট্রাক্ট কাজ নেওয়া। দশজন কর্মী দিয়ে শুরু। ছোট, কিন্তু নিজের।
হয়তো কিছুই না। হয়তো রাকিব ভাই ভাবতে ভাবতে ভুলে যাবে। আবার ফ্যাক্টরিতে ফিরে যাবে, আবার দশ ঘণ্টা দাঁড়াবে, আবার পিঠে ব্যথা হবে, আবার মোটামুটি চলবে।
কিন্তু জাহিদ ছাড়বে না। এই ঋণ শোধ করতে হবে। ঋণ বলছে না ঠিক, কারণ রাকিব ভাই এটাকে ঋণ মনে করে না। বিনিয়োগ মনে করে। কিন্তু জাহিদের কাছে এটা ঋণের চেয়েও বেশি কিছু। এটা একটা জীবনের দাম। রাকিব ভাই তার নিজের সম্ভাবনা খরচ করেছে জাহিদের সম্ভাবনা তৈরি করতে। এখন জাহিদের পালা।
৯
ঈদের তিন দিনের শেষ দিন।
রাকিব ভাই ব্যাগ গুছাচ্ছে। কাল সকালে গাজীপুর ফিরে যাবে। ফ্যাক্টরিতে ছুটি তিন দিন, তিন দিন মানে তিন দিনই। একদিন বেশি নেওয়ার উপায় নেই, কারণ প্রোডাকশন টার্গেট আছে, বায়ারের শিপমেন্ট আছে, ডেডলাইন আছে।
তাহিরা ভাবি আম্মার সাথে রান্নাঘরে। আম্মা বলছে, "বেশিদিন থাকো না কেন?" তাহিরা ভাবি হাসছে, বলছে, "পরেরবার বেশিদিন থাকব।" দুজনেই জানে পরেরবারও তিন দিন হবে। কিন্তু বলছে, কারণ বলতে ভালো লাগে।
আয়েশা ঘরের মধ্যে দৌড়াচ্ছে। দুই বছরের বাচ্চা, পুরো পৃথিবীটা তার খেলার মাঠ। টেবিলের পায়ে ধাক্কা খেল, পড়ে গেল, কাঁদল না, উঠে আবার দৌড়ালো। জাহিদ বসে আছে, ল্যাপটপ খোলা, কিন্তু কাজ করছে না।
আয়েশা দৌড়াতে দৌড়াতে জাহিদের কাছে এলো। দুই হাত তুলে দিল।
"মামু! মামু!"
জাহিদ আয়েশাকে কোলে তুলে নিল। বাচ্চাটা হালকা, কিন্তু ওজনটা অন্যরকম। একটা বাচ্চার ওজন শুধু কেজিতে মাপা যায় না। এর মধ্যে ভবিষ্যৎ আছে, সম্ভাবনা আছে, স্বপ্ন আছে। রাকিব ভাইয়ের স্বপ্ন যেটা পূরণ হয়নি, সেটা হয়তো আয়েশার মধ্যে দিয়ে পূরণ হবে।
আয়েশা জাহিদের গালে হাত দিল। ছোট্ট হাত, নরম, পরিষ্কার। রাকিব ভাইয়ের হাতের মতো রুক্ষ হয়নি এখনো। হবেও না। জাহিদ দেখবে যেন না হয়।
এই মেয়েকে কখনো কারো জন্য থামতে হবে না। কখনো কারো জীবনের দাম হিসেবে নিজের সম্ভাবনা খরচ করতে হবে না। এই মেয়ে পড়বে, শিখবে, বাড়বে। রাকিব ভাই যেটা পায়নি, জাহিদ যেটা পেতে গিয়ে ভাইয়ের ঋণে ডুবেছে, আয়েশা সেটা পাবে কোনো ঋণ ছাড়া।
জাহিদ আয়েশাকে ধরে রইল। বাইরে সন্ধ্যা নামছে। ঈদ শেষ হচ্ছে। কাল থেকে আবার সবকিছু স্বাভাবিক হবে। রাকিব ভাই গাজীপুরে ফিরে যাবে, জাহিদ ল্যাপটপ খুলে কাজে বসবে। কিন্তু কিছু একটা বদলেছে। একটা কথা হয়েছে যেটা বারো বছর ধরে হয়নি। একটা দরজা খুলেছে যেটা বারো বছর ধরে বন্ধ ছিল।
রাকিব ভাই ভাববে। জাহিদ জানে, ভাই ভাববে।
আর জাহিদ অপেক্ষা করবে। যতক্ষণ লাগে।